23
30 2018 Oct
news intro

পাঁ<img src="http://bsfs.org.bd/images/upload/9b1b59c42ed5838a2dad460046238888/177.JPG" alt="" />চ শতাধিক বই নিয়ে রাজধানীর কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো সায়েন্স ফিকশন বইমেলা।<br /><br />প্রতিনিয়ত নানা জায়গায় ভিন্নধমীর্ অনেক বইমেলা হয়। কিন্তু শুধুমাত্র সায়েন্স ফিকশন বই নিয়ে মেলার আয়োজন করে থাকে বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটি (বিএসএফএস)। কল্পবিজ্ঞানের প্রায় সব বই নিয়ে পঞ্চমবারের মতো আয়োজিত এই বইমেলা চলে শাহবাগের গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে। কল্পবিজ্ঞানের বৈচিত্র্যপূণর্ ও মজার মজার বইয়ের সমাহার ঘটেছে মেলায়। তাই প্রথম দিন থেকেই বিজ্ঞানপিপাসু পাঠকের আগমনে সরব হয়ে ওঠে মেলা।<br /><br />‘এসো এসো, সায়েন্স ফিকশন বইমেলা ২০১৮-তে এসো; হারিয়ে যাও কল্পবিজ্ঞানের অজানা জগতে’ এই স্লোগান নিয়ে শনিবার দুপুরে বইমেলার উদ্বোধন করেন শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম। এর আগে কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের সেমিনার কক্ষে আয়োজন করা হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের। এতে অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও কালেরকণ্ঠের নিবার্হী সম্পাদক মোস্তফা কামাল, কথাসাহিত্যিক দীপু মাহমুদ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সায়েন্স ফিকশন সোসাইটির সহসভাপতি এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ এবং তরুণ জনপ্রিয় বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক নাসিম সাহনিক। সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক আজহারুল হক ফরাজীর উপস্থাপনায় স্বাগত বক্তব্য দেন বইমেলা উদ?যাপন কমিটির আহব্বায়ক আমিনুল ইসলাম সবুজ। সভাপতিত্ব করেন সায়েন্স ফিকশন সোসাইটির সভাপতি কথাসাহিত্যিক মোশতাক আহমেদ।<br /><br />শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম বলেন, ‘সায়েন্স ফিকশন হচ্ছে রোমাঞ্চকর এবং অচেনা ও অজানা পৃথিবীতে যাত্রা। লেখকরা যখন কল্পনা ও বিজ্ঞানের সাহায্যে নতুন পৃথিবীর কথা বলেন, তখন পাঠকও সেই চিন্তায় আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত হয়। কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী শুধু নয়Ñ সব বয়সের পাঠকই পড়ে সায়েন্স ফিকশন বই।’ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। আমি এখানে এসে সত্যি অনুপ্রাণিত হলাম। তাদের যে কমর্যজ্ঞ ও সুদক্ষ ব্যবস্থাপনা তা সত্যিই অহঙ্কার করার মতো।<br /><br />বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক কালেরকণ্ঠের নিবার্হী সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘১৫ বছর আগে যখন প্রথম সায়েন্স ফিকশন লিখি, তখন এ ধারার পাঠক কম ছিল; প্রকাশকেরও আগ্রহ কম ছিল। তখন অনেকে সায়েন্স ফিকশনকে সাহিত্যই মনে করতেন না। কিন্তু সেই সময় আর নেই। সায়েন্স ফিকশন বতর্মানে সাহিত্যের জনপ্রিয় এক ধারা। বিজ্ঞান অবলম্বন করে সাহিত্যের এ ধারার পাঠকপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। কল্পনার ভিনগ্রহের প্রাণী (এলিয়েন), বৈজ্ঞানিক নানা আবিষ্কারসহ নানা বিষয় নিয়ে রচিত হচ্ছে মজার সব সায়েন্স ফিকশন।<br /><br />বেশ কটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কল্পবিজ্ঞানের বই পাঠকদের চিন্তা ও কল্পনার রাজ্য খুলে দিচ্ছে, বিজ্ঞানমনস্ক করছে অংসখ্য মানুষকে। যা দেশের জন্য খুবই প্রয়োজন।’<br /><br />অমর একুশে গ্রন্থমেলায় সায়েন্স ফিকশনের বই ও লেখকদের জন্য বিশেষ কনার্র স্থাপনের দাবি জানিয়ে কথাসাহিত্যিক দীপু মাহমুদ বলেন, ‘বিজ্ঞানের নানা গুরুত্বপূণর্ আবিষ্কারের মূলেই রয়েছে সায়েন্স ফিকশনের গুরুত্বপূণর্ অবদান। সে সব আবিষ্কার মানবসভ্যতাকে এগিয়ে দিয়েছে অনেকখানি।’<br /><br />বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘পৃথিবীতে নানা ধরনের বইমেলা হয়। শুধু সায়েন্স ফিকশনের বই নিয়ে বইমেলা হয়, পৃথিবীতে এমন উদাহরণ আর নেই। আমরা এ ক্ষেত্রে পথিকৃৎ বলা যায়।’<br /><br />সভাপতির বক্তব্যে সায়েন্স ফিকশন সোসাইটির সভাপতি কথাসাহিত্যিক মোশতাক আহমেদ বলেন, ‘আজকের কল্পনা আগামীর বিজ্ঞান এই  স্লোগানে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা যখন পাঁচ বছর আগে প্রথমবারের মতো এ মেলার আয়োজন করেছিলাম, তখনো ভাবতে পারিনি পাঠক ও মানুষ তা কীভাবে গ্রহণ করবে। আয়োজন নিয়মিত অব্যাহত রাখতে পারব কিনা তা নিয়েও শঙ্কা ছিল। পঁাচ বছরের ধারাবাহিকতায় এখন আমাদের আর কোনো শঙ্কা নেই। আমরা আপনাদের সবসময় পাশে পেতে চাই।’<br /><br />তরুণ জনপ্রিয় বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক নাসিম সাহনিক বলেন, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর এই আয়োজন দেশব্যাপী ছড়িয়ে যাবে এবং আরও বড় পরিসরে হবে। সবাইকে এ ধরনের শুভ আয়োজনে এগিয়ে আসতে হবে।<br /><br />উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সায়েন্স ফিকশন বইপড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও পদক তুলে দেন। দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় সাত দিনের এ মেলায় বিভিন্ন প্রকাশনার বিজ্ঞানবিষয়ক বই ২৫ শতাংশ ছাড়ে কেনার সুযোগ ছিল। উৎসবের সবোর্চ্চসংখ্যক বই ক্রেতাকে সমাপনী দিনে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পযর্ন্ত এ মেলা চলে। ২৬ অক্টোবর সমাপনীর মাধ্যমে সায়েন্স ফিকশন মেলা ২০১৮ শেষ হয়।